Wednesday , September 16 2020
শিরোনাম
Home / শিক্ষা / কিন্ডার গার্টেন/কেজি স্কুল গুলোর শিক্ষা বাণিজ্য, প্রয়োজন সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা
ছবি ইন্টারনেট

কিন্ডার গার্টেন/কেজি স্কুল গুলোর শিক্ষা বাণিজ্য, প্রয়োজন সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা

অনলাইন ডেস্কঃ আজকের শিশু আগামি দিনের ভবিষ্যত। প্রত্যেক পিতামাতাই তাদের সস্তানের ভবিষ্যত গড়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন। সন্তানকে কোন স্কুলে পড়ালে সন্তান ভালো ফলাফল করবে, কোথায় দিলে সন্তানের ভবিষ্যত ভালো হবে সে দিকেই লক্ষ্য থাকে। সন্তান বড় হবার পরপরই পিতামাতার ভাবনা থাকে সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে। কাছাকাছি কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকলে কিংবা সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ভালো না হলে একটু বাড়তি যত্ন নেয়া ও ভালো ভাবে দেখাশোনার জন্য পিতামাতা সন্তানকে কিন্ডার গার্টেনে ভর্তি করে থাকেন।

কিন্তু তারা কখনো ভাবতে পারে না যে, সেখানে ভর্তি করানো মানেই সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানো কাছে অভিভাবক জিম্মি থাকা। প্রতিষ্ঠান থেকে বই, খাতা, টাই, বেইজ, ক্যাপ ইত্যাদি ক্রয় করা নতুন কিছুই নয়। বর্তমানে আরো যোগ হয়েছে হ্যান্ড নোট ও প্রকাশণার সাথে যোগসাজে কিন্ডার গার্টেনের জন্য লেখা কিছু প্রকাশণার নিম্ন মানের বই । মহমান্য হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে শিশুদের শারীরিক ওজনের দশ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ তাদের কাঁধে না দিতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বইয়ের পরিধি কমানোর জন্য একাধিকবার তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগুলো মানলেও কেজি স্কুলগুলো তা যেন কোন তোয়াক্কাই করছে না। কিছু কিছু স্কুল তাদের বইয়ের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বইয়ের দামও আবার রহস্যজনক ভাবে আকশচুম্বি৷ ২৬ পৃষ্ঠার একটি বইয়ের দাম ৭৭ টাকা, তাতে কোনো কমিশন ছাড়াই নির্দিষ্ট লাইব্রেরি থেকে ক্রয় করতে হয়৷ ৮-৯ বছররের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় ১৩টি বিষয়, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে এগুলোর মধ্যে প্রতিদিন ক্লাশ হয় কমপক্ষে ৮ বিষয়৷ ১৩ বিষয়ের জন্য ১৩টি বাড়ির কাজের খাতা৷ সকল খাতাও কিনতে হয় প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের ধার্যকৃত নির্দিষ্ট মূল্যে৷

সরকারি পাঠ্য বইয়ের প্রতি গুরুত্ব কম দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ইংরেজি গ্রামার ও বাংলা ব্যাকরণ কোনো কিছু না বুঝেই মুখস্ত করানো প্রবল রীতি চালু আছে সে সকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে৷ আরো আছে ফিস আদায়ের লক্ষ্যে ক্লাশ টেস্ট, সাপ্তাহিক, মাসিক, পার্বিক, সাময়িক পরীক্ষার বিরাট বোঝা৷ সকল পরীক্ষার জন্য আলাদা খাতা রাখার বিধানও আছে৷ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বছরে ২৫-৩০টি পরীক্ষা নেয়ার কথাও শোনা যায়৷ দেখে দেখে পড়তে না পড়লেও অলৌকিকভাবে সবাই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ৯০ এর উপড়ে নম্বর পেয়ে থাকে৷ এসব দেখে সহজ সরল অভিভাবক বেজায় খুশি, বিশেষ করে কিছু না বুঝেই প্রবাসিদের স্ত্রীদের খুশির সীমা থাকে না৷ অনেক কেজি স্কুলই সাধারণ মানুষের মনে দাগ কাটতে এখন বিভিন্ন আকর্ষণীয় বিদেশী নামে প্রতিষ্ঠিত৷ সেগুলোতে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিগুলোই সীমাবদ্ধ নয়; পড়ানো হয় ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত৷ ৬ষ্ঠ-৭ম শ্রেণিতেও এদের অনেক প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি সিলেবাস কিংবা পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে না বললেই চলে৷ মনগড়া মান্ধাতার অামলের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ ভিত্তিক অধিক ফিস আদায়ের লক্ষ্যে অধিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু থাকতে দেখা যায়৷

আসলে কিন্ডার গার্টেণ কোন ক্লাশ পর্যন্ত হওয়া উচিত? কিন্ডার গার্টেণে যদি ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় তাহলে তাদের শিক্ষকের যোগ্যতা কি হওয়া উচিত? মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষকের জন্য তাদের অবশ্যই নীতিমালা থাকা উচিত৷ কেজি স্কুলগুলো তদারকি করতে গত বছর দেশ ব্যাপী ৫৫৯টি টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও তার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন অদ্যাবদি দেখা যায় নাই৷ প্রাথমিক পর্যায়ের কেজি স্কুলগুলোতে জেলা  ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোনো কর্তৃত্ব নেই বলে স্কুলগুলো সরকারি নিয়ম নীতিও মানতে বাধ্য হয় না৷ ফলে তারা ইচ্ছামত নিম্ন মানের ও চড়া দামের বই পাঠ্য করে শিক্ষার্থীদের ব্যাগের বোঝা ভারী করে কোনো কিছু না বুঝেই মুখস্ত বিদ্যার প্রতি ধাবিত করে থাকে৷ সকাল- বিকালে স্কুলের রাস্তার দিকে তাকালে ছোট ছোট কচি কাচাদের ব্যাগের ভাঁড়ে বাঁকা হয়ে স্কুলে যেতে ও ফিরতে দেখা যায়৷ পড়ার চাপে এ সকল বাচ্চারা খেলাধুলা ও বিনোদনের কোনো সময় পায় না৷ কো-কারিকুলাম একটিভিটিজ ও সরকারি বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণও প্রশ্ন বিদ্ধ৷ তাছাড়াও পড়া শিখতে ও অধিক বাড়ির কাজের চাপে শিশুরা গৃহ কর্তৃকও মানসিক চাপে থাকতে হয়৷ অনেক সময় এরা নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দেয়৷ অনেক শিক্ষার্থীতেরকে কেজি স্কুল পাড়ি দিয়ে পরবর্তি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতেই মনোযোগহীনতা, পড়ার প্রতি অনিহা ও স্কুল ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়৷

যেহেতু দেশের শিক্ষা বিস্তারে কেজি স্কুল স্থাপন ও পরিচালনায় সরকারি কোনো নিষেধ নেই সেহেতু সরকার অবশ্যই এগুলো নিয়ন্ত্রণে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করে দেয়া উচিত যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুসরণ করাসহ বইয়ের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসায়ী মনমানসিকতা থেকে দূরে এসে প্রকৃত শিক্ষা বিস্তারে দেশে অবদান রাখে৷ তাছাড়াও কেজি স্কুল পরিচালনায় পরিচালনা কমিটি গঠনের বিধানসহ শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ও সুনির্দিষ্ট করে দেয়া বাঞ্ছনীয়৷-শিক্ষক বাতায়ন

মোহাম্মদ মহসিন মিয়া

শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট৷

স্বাধীন বিডি ২৪/৭৭ম ১৪০২১৮০৩

Check Also

corona-virus-new-bd

বাংলাদেশে আরো ২ জনের মৃত্যু, নতুন করে ৯জন করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রাক্ত হয়ে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন নয় জন। …